সাধারণ জ্ঞান

দিন রাত সমান হয় কত তারিখে? জানুন এর কারণ ও গুরুত্ব

তানভীর আহমেদতানভীর আহমেদ··এই পোস্টটি ইংরেজিতেও পড়ুন — ভাষা পরিবর্তন করুন

পৃথিবী তার আপন কক্ষপথে সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হওয়ার সময় অক্ষের হেলানো অবস্থানের কারণে বিভিন্ন ঋতুর সৃষ্টি হয়। এর ফলে বছরের বিভিন্ন সময়ে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্যের পার্থক্য ঘটে। তবে বছরে এমন দুটি দিন আসে যখন পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের সর্বত্র দিন এবং রাত সমান হয়। এই মহাজাগতিক ঘটনাকে ভূগোলের ভাষায় 'বিষুব' বা 'ইকুইনক্স' (Equinox) বলা হয়।

দিন রাত সমান হওয়ার তারিখসমূহ

সাধারণত বছরে দুইবার দিন ও রাত সমান হয়ে থাকে। তারিখগুলো হলো:

১. ২১শে মার্চ: একে 'বসন্ত বিষুব' বা মহাবিষুব বলা হয়। এই সময়ে উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল শুরু হয়। ২. ২৩শে সেপ্টেম্বর: একে 'শরৎ বিষুব' বা জলবিষুব বলা হয়। এই সময়ে উত্তর গোলার্ধে শরৎ ঋতুর সূচনা ঘটে।

উল্লেখ্য যে, লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষের কারণে এই তারিখগুলো মাঝে মাঝে এক-আধ দিন এদিক-সেদিক হতে পারে (যেমন ২০ মার্চ বা ২২ সেপ্টেম্বর)। তবে অধিকাংশ বছর ২১ মার্চ এবং ২৩ সেপ্টেম্বরকেই আদর্শ ধরা হয়।

কেন দিন ও রাত সমান হয়?

পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘোরার সময় তার মেরুরেখা বা অক্ষ কক্ষতলের সাথে ৬৬.৫ ডিগ্রি কোণে হেলে থাকে। এই হেলানো অবস্থানের কারণে বছরের বেশিরভাগ সময় কোনো একটি মেরু সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে। কিন্তু ২১শে মার্চ এবং ২৩শে সেপ্টেম্বর এমন এক অবস্থানে পৌঁছায় যখন সূর্যের রশ্মি সরাসরি বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখার (Equator) ওপর লম্বভাবে পড়ে।

এই নির্দিষ্ট সময়ে সূর্য উত্তর বা দক্ষিণ কোনো মেরুর দিকেই হেলে থাকে না। ফলে আলোকরশ্মি পৃথিবীর দুই গোলার্ধে সমানভাবে পৌঁছায়। যেহেতু আলোক বৃত্ত ঠিক মেরুদ্বয় বরাবর অতিক্রম করে, তাই পৃথিবীর সর্বত্র ১২ ঘণ্টা দিন এবং ১২ ঘণ্টা রাত হয়।

ঋতু পরিবর্তনে এর ভূমিকা

বিষুব বিন্দুগুলো ঋতু পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে কাজ করে।

  • মার্চ বিষুব: ২১শে মার্চের পর সূর্য উত্তরাভিমুখী হয় (উত্তরায়ণ)। এর ফলে উত্তর গোলার্ধে দিন বড় হতে থাকে এবং গরম বাড়তে শুরু করে। বাংলাদেশে এই সময় থেকে বসন্তের পূর্ণতা ও গ্রীষ্মের আগমণী বার্তা পাওয়া যায়।
  • সেপ্টেম্বর বিষুব: ২৩শে সেপ্টেম্বরের পর সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে ঝুঁকতে থাকে (দক্ষিণায়ন)। এর ফলে উত্তর গোলার্ধে রাত বড় হতে থাকে এবং শীতের আমেজ শুরু হয়।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

বিষুব সম্পর্কে কিছু চমকপ্রদ তথ্য সবার জানা থাকা প্রয়োজন:

  • 'Equinox' শব্দটি ল্যাটিন শব্দ 'Aequus' (সমান) এবং 'Nox' (রাত) থেকে এসেছে।
  • বিষুবিলম্ব বা দিন-রাত সমান হওয়ার এই ঘটনা সূর্যের অবস্থানের ওপর নির্ভর করে, যা পুরোপুরি প্রাকৃতিক নিয়ম।
  • বিষুবরেখায় অবস্থিত দেশগুলোতে সারা বছরই দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য প্রায় সমান থাকে, তবে ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর পৃথিবীজুড়ে এই সমতা দেখা যায়।

পরিশেষে বলা যায়, মহাজাগতিক এই ভারসাম্য আমাদের পৃথিবীর বৈচিত্র্যময় আবহাওয়ার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃতি কতটা নিখুঁত এবং গাণিতিকভাবে সাজানো। দিন ও রাতের এই সমতা কৃষি, পরিবেশ ও মানবজীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।

শেয়ার করুন:FacebookTwitterWhatsApp